দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত—সাতলার ৫৬০ মিটার সেতু এখন প্রায় সম্পূর্ণ

এ এইচ অনিক, বিশেষ প্রতিনিধি:
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ কাটিয়ে ৫৬০ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুটি এখন সম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে। বর্তমানে চলছে সেতুর রং করার কাজ, এ্যাপ্রোচের পিলার নির্মাণ, সাইড পিলার স্থাপন এবং স্লোপ প্রোটেকশন ব্লক বসানোর কাজ।
কচা নদীর শাখা সাতলাকে দীর্ঘদিন তিনটি ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিল এই নদীটি, আর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ায় এলাকাগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং বহু বছরের ভৌগলিক বিচ্ছিন্নতা দূর হয়। বিশেষ করে মৎস্যচাষী ও কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি সুফল পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, আগে মোটরসাইকেল পারাপারে ট্রলার ভাড়া দিতে হতো ৫০–৬০ টাকা, তাও তীব্র ঝুঁকি নিয়ে। ভ্যান, নছিমন বা পিকআপ পার হতে ঘুরতে হতো ২০–২৫ কিলোমিটার। এখন আধা মিনিটেই সেতু পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই সেতু আমাদের জীবনে যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে নদী পার হতে ভয় লাগত, এখন জীবন অনেক সহজ হয়েছে।” কাজ শুরুর পর বিভিন্ন সমস্যায় সেতুর নির্মাণ ব্যাহত হলেও মূল কাঠামো সম্পন্ন হওয়ার পর এবার একনাগাড়ে চলছে বাকি কাজগুলো।
চলমান কাজের মধ্যে রয়েছ।
বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার ড্রেন সহ সাইড পিলার ও স্লোপ প্রটেকশন বসানোর কারনে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সেতুটি পুরোপুরি কার্যকর করতে সানুহার থেকে সাতলা পর্যন্ত সড়কের চলমান কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন সেতু ব্যবহারকারীরা। তারা বলেন, এত ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়—এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী মনে করেন, সেতুটি তাদের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক জীবনমানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত সব কাজ সমাপ্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Related posts