সাতলায় মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মাছবাহী গাড়ি ভাংচুর


বিশেষ প্রতিনিধি:
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের লাউয়ারভাঙ্গা ও ঘিচুয়ারপাড় এলাকায় একটি মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে মৎস্যচাষি এবং জমির মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং মাছবাহী একটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে নারীসহ চারজন আহত হন।
সংঘর্ষে জমির মালিক পরিবারের সদস্য সোহেল হাওলাদার, শাহা আলমের স্ত্রী নুসরাত আহত হন। অন্যদিকে ঘেরের মৎস্যচাষী নজরুল ইসলাম মিয়া, তার ছেলে মো. শাকিব মিয়াআহত হলে নজরুল ইসলামকে গৈলা হাসপাতালে এবং হোসেন হাওলাদার পরিবারের আহতদের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গত প্রায় ২২ বছর ধরে চলছে ‘একতা মৎস্য ঘের’।
সেই দীর্ঘদিনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে, যেখানে ঘিচুয়ারপাড় আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির সামনের একতা মৎস্য ঘের গত প্রায় ২২ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ঘেরের মাছের কারণে জলাশয়ের পাশের বাড়ির মাটি, বাগান, গাছপালা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর ও রাস্তা।
জমির মালিকদের অভিযোগ
স্থানীয় জমির মালিক পীর মো. মিয়া, যাঁর জমি ঘেরের মধ্যে পড়েছে, জানান—
“২২ বছর ধরে আমার জমিতে ঘের হয়ে আসছে, কিন্তু কোনো টাকা-পয়সা পাইনি। উপরন্তু বাড়ির পাশের মাটি ক্ষয়ে যাচ্ছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক খাঞ্জু বখতিয়ার বলেন—
“নিজের টাকায় পাইলিং করেছি, তবু ক্ষয় রোধ করা যাচ্ছে না।
মৃত ইউপি সদস্য হোছেন হাওলাদারের পরিবারও অভিযোগ করে—ঘেরে তাদের নারিকেল-মহুয়া-রেন্ডি গাছসহ বহু গাছ নষ্ট হয়েছে।
ঘের মালিকপক্ষের বক্তব্য
মৎস্যচাষী মো. মুনছুর মিয়া, ছেলে—মৃত আব্দুল মালেক মিয়া, বলেন—
“এই ঘেরে আমাদেরই জমি ছিলো, ভিটেবাড়িও ছিলো; সব মাটি খেয়ে ফেলেছে মাছ। তবু আমরা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কিছু পরিবার প্রতি বছর টাকা নিলেও আবার ঘের নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন।
হোসেন হাওলাদার পরিবার প্রতি বছর টাকা নিয়েছে। এবারও নেবেন বলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মাছবাহী গাড়ি আটকানো, তিনটি টায়ার কেটে দেওয়া এবং ড্রাইভারকে মারধর—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।
ঘের প্রতিষ্ঠাতার ক্ষোভ, চাষাবাদ বন্ধের সিদ্ধান্ত
ঘেরের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা আইয়ুব আলী মিয়া বলেন—
“আগে ভালো লাভ হলেও এখন আমাদের বাড়িঘরের ক্ষতি বেশি। মাছ মাটি খেয়ে ফেলছে। তাই এ বছর থেকে ঘেরে আর মাছ চাষাবাদ করা হবে না।
তিনি আরও বলেন—
“আজকের ঘটনায় আহত সবাই সুস্থ হয়ে এলে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

Related posts