জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সংকট

দেশের অনেক স্থানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, ভোলা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এটি একটি সার্বিক জনস্বাস্থ্য সংকটের চিত্র। সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এমনকি বেসরকারি ফার্মেসিতেও জীবনরক্ষাকারী এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের শিকার মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি হাসপাতালে টানা কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে ভ্যাকসিন না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭০ জন রোগীর ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়। অথচ তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সেখানে সরবরাহ বন্ধ।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশু, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ওপর। যাদের পক্ষে জেলা শহর বা রাজধানীতে গিয়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা সম্ভব নয়, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। কেউ কেউ ঢাকাসহ অন্য জেলা থেকে ভ্যাকসিন আনাচ্ছেন। কিন্তু এতে ভ্যাকসিনের মান ও সংরক্ষণ নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের কারণে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করাই সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, সরবরাহের আশ্বাস পাওয়া গেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় সেই আশ্বাসের প্রতিফলন নেই। সরকারি পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং একই সঙ্গে ওষুধ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকেও ভ্যাকসিন না আসা-এই দুইয়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
জলাতঙ্ক প্রতিরোধ জরুরি ও বাধ্যতামূলক জনস্বাস্থ্য দায়িত্বের অংশ। এই ভ্যাকসিনের ঘাটতি মানে সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হওয়া। তাই বিষয়টি সাময়িক প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত কেন্দ্রীয় মজুত থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিকল্প উৎস সক্রিয় করা এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

Related posts