আনন্দের ঈদযাত্রায় আছে স্বস্তি ও শঙ্কা

ঢাকা অফিস:
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের বিশেষ আনন্দের ঈদযাত্রা। শনিবার ভোর থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন হাজারো মানুষ। কমলাপুর রেলস্টেশন, রাজধানীর তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি। সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই অনেকে পরিবার নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কসহ দেশের প্রধান সাতটি রুটে ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি পদ্মা ও যমুনা সেতুর টোলপ্লাজায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌপথে মাঝনদীতে যাত্রী ওঠানামা নিষিদ্ধ করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জামালপুরগামী যাত্রী মৌসুমী আক্তার পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি এবং বাড়তি ভাড়াও দিতে হয়নি। রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের ভিড় ছিল। মহাখালীর একতা, এনা, জলসিঁড়ি, অনন্যা ক্লাসিক ও ইউনাইটেড পরিবহনের কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। টার্মিনালে পুলিশ ও বিআরটিএর প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতিও দেখা গেছে। অন্যদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে।

শনিবার ভোর ৬টায় ঢাকা স্টেশন থেকে রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রেলের ঈদযাত্রাও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনা টিকিটের যাত্রী ও বহিরাগতদের ঠেকাতে ঢাকা, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে অস্থায়ী গেট স্থাপন করে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। আজ রোববার থেকে ১০টি বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু করবে। নিয়মিত আসনের পাশাপাশি ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটও রাখা হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে রাজশাহীগামী যাত্রী সুমি বেগম বলেন, অনলাইনে আগেই টিকিট সংগ্রহ করায় কোনো ভোগান্তি হয়নি। সিলেটগামী ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব করিমের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে এবং নিরাপদ পরিবেশে ভ্রমণের আশা করছেন তিনি।

এদিকে, শনিবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভিড় কম থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, এবারের ঈদে নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারে। এজন্য প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বিশেষ সার্ভিস চালুর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তির মধ্য দিয়ে নৌপথেও ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে । বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি লঞ্চের কাগজপত্র, লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে। বরিশালগামী যাত্রী তৌফিক ইমাম বলেন, এবারের নৌযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন। ভোলাগামী যাত্রী রিনা বেগমও নৌপথের সার্বিক আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চালকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো চালক একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হতে পারে। তবে স্বস্তির মধ্যেও সম্ভাব্য ভোগান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। চলমান উন্নয়নকাজ, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অস্থায়ী পশুর হাট এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে ঈদযাত্রায় চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাজীপুর, আব্দুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলমান উন্নয়নকাজও যানজটের অন্যতম কারণ হতে পারে।

Related posts