‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ ইরান চুক্তি, কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক ‘মূলত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে’।
ট্রাম্প শনিবার জানান, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে তিনি বলেন, এটি এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের অনুমোদন ও চূড়ান্ত সমঝোতার অপেক্ষায় রয়েছে।
কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিসর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
তিনি আরও জানান, আলাদাভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতনিয়াহুর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাকিস্তান ‘খুব শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আয়োজন করতে পারবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফোনালাপের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় আঙ্কারা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, যেকোনো সমঝোতা হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তবে কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
অন্যদিকে মিসরের প্রেসিডেন্সি এক পৃথক বিবৃতিতে সব পক্ষকে কূটনৈতিক উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে—সপ্তাহের শুরুতে ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের এমন হুমকির পর এই ঘোষণাটি সর্বশেষ মোড়।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রায় হামলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে সেটি আপাতত ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছে।
এরপর থেকে ট্রাম্প একদিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, এরমধ্যে শনিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় আচ্ছাদিত ইরানের একটি ছবিও পোস্ট করেন। অন্যদিকে দাবি করছেন, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির শনিবার ইরানে সংক্ষিপ্ত কিন্তু ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ সফরের পরই ট্রাম্প এ বিবৃতি দেন।
আরও বলা হয়, একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।

সতর্ক অবস্থানে তেহরান
তবে তেহরানের কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কারণ, এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র দু’দফা হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। তবে ৮ এপ্রিল থেকে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের লড়াই কার্যত স্থগিত রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে, আর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ এবং জব্দ করা ইরানি তহবিলে প্রবেশাধিকার।

Related posts